পোষা পাখির যত্ন আত্তি…

উরমি রুবিনা
পাখিটিকে একা রাখবেন না। একই রকম আরেকটি পাখি নিয়ে আসুন এর সঙ্গী হিসেবে। বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গী হলে ভালো হয়। এতে করে পাখিটি নতুন পরিবেশে একাকীত্বে ভুগবে না। সপ্তাহে একদিন একটা বড় বাটিতে পানি নিয়ে খাঁচার ভেতরে দিন।

দেখবেন পানি যাতে খুব ঠান্ডা না হয়। এতে পাখিটার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। এভাবে পানি দিলে পাখি নিজেই গোসল করে নেবে।

ইট কাঠ পাথরের এই শহরে কার না মন চায় একটু প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে। ভোরবেলায় পাখির কিচির মিচিরে ঘুম ভাঙ্গা মানে দিনের শুরুটাই হল একটা স্নিগ্ধতার পরশে! আর এ কারণেই আমরা অনেকে বাসায় করে থাকি শখের বাগান আর পুষে থাকি রঙ বেরঙ্গের নানা পাখি।

কিন্তু এই ছোট্ট পাখিগুলো পোষাটা মাঝে মাঝে বেশ ঝামেলাও বটে! দেখা যায় দু’দিন বাদেই অসুস্থ হয়ে গিয়ে মারা যায় অনেক পাখি। আদুরে পাখিগুলোর যত্ন আত্তি কিন্তু আসলে তেমন একটা কঠিন কিছু নয়। আপনাদের জন্যে রইলো কিছু টিপস-

১)সঠিক মাপের খাঁচা কিনুনঃ
এমন নয় যে আপনাকে বিশাল মাপের খাঁচা কিনতে হবে। পাখির আকার ও সংখ্যা অনুযায়ী খাঁচার মাপ নির্ভর করবে। তবে খাঁচা কেনার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন।

•পাখির চলাফেরার জন্যে যাতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে।
•খাঁচার সব দিক যাতে মসৃণ থাকে এবং কোথাও যাতে তার বা পিন বের না হয়ে থাকে যাতে পাখি আঘাত পায়।
•দরজাটা যাতে একটু বড় থাকে। এতে খাঁচা পরিস্কার করার সময় পাখিটাকে বের করা বা ঢোকানো সহজ হবে।
•খাঁচার শিকগুলো যাতে এতো বড় না হয় যে পাখি বেরিয়ে উড়ে যেতে পারে।

২) অন্য পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখুনঃ
বাসায় যদি অন্য পোষা প্রাণী যেমন কুকুর, বেড়াল থাকে তবে পাখির খাঁচাটা এদের নাগালের বাইরে রাখুন। নয়তো আপনার সাধের পাখিটা আপনার অজান্তেই বিড়ালের পেটে চলে যেতে পারে।

বারান্দার গ্রীল ঘেঁষেও রাখবেন না। কেননা বিড়াল গ্রীল বেয়ে পাখির খাঁচার কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তবে অন্যান্য প্রাণীর কাছাকাছি রাখলে পাখিটি ভালো থাকবে। তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যাতে পাখিটির কোন ক্ষতি না হয়।

৩)পাখিটিকে একা রাখবেন নাঃ
পাখিটিকে একা রাখবেন না। একই রকম আরেকটি পাখি নিয়ে আসুন এর সঙ্গী হিসেবে। বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গী হলে ভালো হয়। এতে করে পাখিটি নতুন পরিবেশে একাকীত্বে ভুগবে না।

৪)খাঁচাটি পরিস্কার রাখুনঃ
পাখির ছোট্ট বাসাটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। গরম পানি দিয়ে সপ্তাহে একবার খাবারের পাত্রগুলো ধুয়ে দিন। পুরো খাঁচা সাবান পানি দিয়ে পরিস্কার করুন। খাঁচার একটু নিচে আরেকটি বাড়তি অংশ লাগান সেখানে কাগজ দিয়ে ঢেকে দিন। এতে পাখির বর্জ্য খাঁচার ভেতরে আটকে না থেকে এই কাগজের উপর পড়বে। ফলে সহজেই আপনি প্রতিদিন একবার এটা বদলে দিতে পারবেন। পাখির খাঁচাও নোংরা হবে না তেমন!

৫)সময়মত খাবার দিনঃ
পাখিকে দিনে ২ বার সময় মত খাবার দিন, পানি দিন। পানি নিয়মিত বদলে দিন যাতে সেখানে ময়লা না জমে। নিয়মিত পরিস্কার না করলে এই পানিতে ব্যাক্টেরিয়া বা মশা জন্মাতে পারে।

৬)পাখির পরিচ্ছন্নতাঃ
পাখির আবাসন পরিস্কার রাখার সাথে সাথে পাখিটাকেও কিন্তু পরিস্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে একদিন একটা বড় বাটিতে পানি নিয়ে খাঁচার ভেতরে দিন। দেখবেন পানি যাতে খুব ঠান্ডা না হয়। এতে পাখিটার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। এভাবে পানি দিলে পাখি নিজেই গোসল করে নেবে। মাঝে মাঝে পাখির পাগুলোতে আটকে থাকা ময়লা পরিস্কার করে দিতে পারেন।

৭)পাখিটিকে ভালোবাসা দিনঃ
পোষা পাখিটিকে ভালোবাসা দিন। ছোট্ট পাখিটিও কিন্তু একটি প্রাণ। তাই এই ক্ষুদে জীবনটিকে ভালোবাসা দেখান। আপনার ভাষা বুঝতে না পারলেও আপনার ভালোবাসার উষ্ণতা পাখিটি ঠিকই অনুভব করতে পারবে।

8)বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখুনঃ
পোষা পাখি রাখুন বাচ্চাদের নাগালের বাইরে। খেয়াল রাখবেন, ছোট বাচ্চাদের দ্বারা যাতে পাখিটি কোন রকম খোঁচাখুঁচি, ক্ষতি বা আঘাতের শিকার না হয়।

৯)কড়া রোদে ফেলে রাখবেন নাঃ
পাখিটিকে রাখুন ছায়াযুক্ত, আলো-বাতাস সহজে চলাচল করে এমন স্থানে। বারান্দার শোভা বর্ধনের জন্যে ছোট্ট পাখিটাকে কড়া রোদে ফেলে রাখবেন না যেন!

১১)পাখির রোগ হলেঃ
পাখির অসুখ হলে অন্য সুস্থ পাখিটাকে অসুস্থ পাখিটা থেকে আলাদা রাখুন। এতে অন্য পাখিটা রোগগ্রস্থ হবে না। পাখিটাকে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখান অথবা আশপাশে পশুর ডাক্তার না পেলে যেখান থেকে পাখি কিনেছেন তাদের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। এবারে আপনার শখের পাখিগুলো থাকবে সুস্থ আর সুন্দর। আর পাখির কলকাকলীতে জেগে উঠুক আপনার ভোর!