কেজ বার্ডপাখি পালন

পোষা পাখির বাচ্চার খাবার

বাচ্চা পাখির সবচেয়ে আদর্শ খাবার হচ্ছে ডিম। আমাদের দেশে পালিত সকল ধরণের বিদেশী পাখির বাচ্চারও প্রধান আদর্শ খাবার হল সেদ্ধ ডিম।

শখের বসে পাখি পালন করুন কিংবা ব্যাবসায়ীক কারণে পালন করুন পাখিকে নিয়মিত সঠিক খাবার না দিলে পাখির সঠিক বৃদ্ধি হয় না। পাখিকে নিয়মিত খাবার দিলে পাখি সুস্থ ও সবল থাকে। তবে সব বয়সের পাখির খাবারের পরিমাণ এক নয়। বয়স্ক পাখিদের খাবার দেওয়ার নিয়ম একরকম আর বাচ্চা পাখিদের খাবার দেওয়া ও যত্ন নেয়ার ধরন ভিন্ন রকম।

অনেক সময় পাখির বাচ্চা ডিমের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে বৃদ্ধি পেয়ে মারা যায়। আবার অনেক সময় দেখা যায় পাখির বাচ্চা ডিম ফুটে বের হওয়ার এক অথবা দুই দিন পরে মারা যায়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে- বাচ্চার সঠিক নিয়মে খাবার না দেওয়া।

আমরা জানি যে পৃথিবীর সকল প্রাণীর দেহে অসংখ্য সেল বা কোষ দ্বারা গঠিত। আর প্রাণীর শরীরে এই সেল তৈরি হতে প্রয়োজন প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলস এর সঠিক পরিমাণ। বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পূর্ব মুহুর্ত থেকেই তাঁর কোষ বা সেল বিভাজন শুরু হয়। বাচ্চা পাখির কোষ বা সেল তৈরির হার বয়স্ক পাখির তুলনায় অনেক বেশি। সুতরাং বয়স্ক পাখিকে যে ধরণের খাবার দেওয়া হবে বাচ্চা পাখির খাবারের সঙ্গে তার চেয়ে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থাকতে হবে।

বদ্রিকা, লাভবার্ড, ককাটেল পাখিকে আমরা সাধারনত ভুট্রা, ছোলা, মুগ ইত্যাদি ভিজিয়ে খেতে দেই। এগুলোতে প্রোটিন আছে তবে বাচ্চার খাবার দেওয়ার সময় এগুলোকে অঙ্কুরিত করে দিলে এতে প্রোটিনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বাচ্চাগুলোকে এই দানাদার খাদ্য একটু পিষে নরম করে দিতে হবে।

বাচ্চা পাখির সবচেয়ে আদর্শ খাবার হচ্ছে ডিম। আমাদের দেশে পালিত সকল ধরণের বিদেশী পাখির বাচ্চারও প্রধান আদর্শ খাবার হল সেদ্ধ ডিম।

পাখির বাচ্চার বয়স যখন এক দিন হবে তখন থেকে বাচ্চাকে B- Complex দেওয়া উচিৎ। B- Complex পাখির বাচ্চার হজমে যেমন সাহায্যে করে তেমনি শারীরিক বৃদ্ধিও বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়াও পাখির বাচ্চার বয়স যখন ৭ দিন হবে তখন তাঁকে Caldisol বা Ostovet, Ostocalicium (human) জাতীয় ক্যালসিয়াম ওষুধ দেয়া যেতে পারে। তারপরে বাচ্চার বয়স ২-৩ সপ্তাহ হলে multivitamin, যেমন Recovit, Mulmin (human) দেয়া যেতে পারে।

উপরোক্ত নিয়মে পাখিকে খাবার খাওয়ালে এবং যত্ন নিলে পাখির বাচ্চার মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে যাবে। এইভাবে পাখির বাচ্চাকে খাবার প্রদান করলে পাখির বাচ্চা সর্বদা সবল ও সুস্থ থাকবে।

আরও দেখুনঃ-

এই বিষয়ের পোস্ট

Close